বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা ও চীনের বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে বড় ধাক্কা খেয়েছে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটির গাড়ি বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। এ নিয়ে টানা পাঁচ মাস গাড়ি বিক্রি কমল বিওয়াইডির। খবর রয়টার্স।
পুঁজিবাজারে জমা দেয়া এক নথির তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে বিওয়াইডি বিশ্বজুড়ে মোট ২ লাখ ১০ হাজার ৫১টি গাড়ি বিক্রি করেছে। বিক্রির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদনও কমেছে। গত জুলাই থেকে শুরু হওয়া এ মন্দা জানুয়ারিতেও অব্যাহত ছিল। এ মাসে বিওয়াইডির উৎপাদন কমেছে ২৯ দশমিক ১ শতাংশ।
চীনের বাজারে বিক্রি বাড়াতে জানুয়ারিতে বিওয়াইডি বেশকিছু উন্নত হাইব্রিড গাড়ি বাজারে এনেছে। এগুলোর ব্যাটারি দীর্ঘ সময় সেবা দিতে পারে, ফলে একবার চার্জ দিলে অনেক পথ পাড়ি দেয়া যায়। তবে তাতেও খুব একটা সুফল পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির মোট বিক্রির অর্ধেকের বেশিই হলো ‘প্লাগ-ইন হাইব্রিড’গাড়ি। অর্থাৎ এসব গাড়ি বিদ্যুতেও চলে আবার জ্বালানি তেলেও চলে। জানুয়ারিতে এ হাইব্রিড গাড়ির বিক্রি কমেছে ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৫ সালেও এগুলোর বিক্রি প্রায় ৮ শতাংশ কমেছিল।
বিওয়াইডি চলতি বছর বিদেশের বাজারে ১৩ লাখ গাড়ি রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। এটি গত বছরের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি হলেও আগের লক্ষ্যের চেয়ে কম। সিটিগ্রুপের সঙ্গে এক বৈঠকে বিওয়াইডির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আগে ১৬ লাখ গাড়ি রফতানির কথা বলেছিল। তবে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা কেন কমানো হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি কোনো স্পষ্ট কারণ জানায়নি।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছর টেসলাকে টপকে বিশ্বের শীর্ষ ইভি বিক্রেতা হলেও নিজ দেশে তীব্র চাপের মুখে রয়েছে বিওয়াইডি। বিশেষ করে সাশ্রয়ী মূল্যের গাড়ির বাজারে গিলি ও লিপমোটরের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বিওয়াইডিকে বড় চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
এছাড়া চীন সরকার নতুন গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ভর্তুকি কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে চলতি বছর চীনের সামগ্রিক অটোমোবাইল বাজারে স্থবিরতা দেখা দিতে পারে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে ব্রাজিল ও থাইল্যান্ডে বিওয়াইডির কারখানা চালু আছে। চলতি বছর হাঙ্গেরিতেও তাদের নতুন প্লান্ট চালু হতে পারে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়া ও তুরস্কে কারখানা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।